এশিয়ার স্পট মার্কেটে ২০ মাসের সর্বনিম্নে এলএনজির দাম

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে।

এশিয়ার স্পট মার্কেটে গত সপ্তাহে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাসের (এলএনজি) দাম ২০ মাসের সর্বনিম্নে নেমে এসেছে। কম চাহিদা ও বাড়তি সরবরাহ থাকায় জ্বালানিপণ্যটির দাম কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। খবর বিজনেস রেকর্ডার।

শিল্পসংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ফেব্রুয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত সপ্তাহে প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৯ ডলার ৫০ সেন্ট। এটি আগের সপ্তাহের ১০ ডলারের তুলনায় কম এবং ২০২৪ সালের এপ্রিলের পর সর্বনিম্ন।

কেপলারের বিশ্লেষক নেলসন ঝিয়ং জানান, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাসের নিম্নমুখী চাহিদায় দাম কমে এসেছে। চীনে পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ স্থিতিশীল আছে। এছাড়া জাপানে নবায়নযোগ্য শক্তির উৎপাদন বেশি হওয়ায় এলএনজির চাহিদা কম।

বিশ্লেষকদের মতে, উত্তর-পূর্ব এশিয়ায় প্রাকৃতিক গ্যাস ব্যবহারের চাপ কম থাকায় বাজারে দাম নিম্নমুখী রয়েছে। বিশেষ করে চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় বেশি উষ্ণ থাকায় বিদ্যুতের চাহিদা কম। পাশাপাশি জাপানে নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ উৎপাদন ভালো থাকায় এলএনজির ব্যবহার আরো কমেছে। তাই দামও নিম্নমুখী।

দাম কমে যাওয়ায় গত সপ্তাহে কিছু আমদানিকারক তুলনামূলক কম দামে এলএনজি কেনার সুযোগ নিয়েছেন। তবে শীর্ষ ক্রেতা দেশ চীন এখনো বাজারে বড় পরিসরে সক্রিয় হয়নি। বাজারসংশ্লিষ্টদের মতে, চীনা আমদানিকারকরা আরো কম দামের অপেক্ষায় রয়েছেন। অনেক ব্যবসায়ীদের লক্ষ্য, প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম ৮ ডলারের কাছাকাছি নামলে তবেই বড় আকারে কেনাকাটা শুরু করবেন। ফলে স্বল্পমেয়াদে বাজারে চাহিদা সীমিতই থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

নর্থওয়েস্ট ইউরোপ এলএনজি মার্কার (এনডব্লিউএম) আদর্শে উত্তর-পশ্চিম ইউরোপে ফেব্রয়ারিতে সরবরাহের জন্য গত বৃহস্পতিবার প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির গড় মূল্য ছিল ৮ ডলার ৮৮ সেন্ট। এটি টিটিএফের (নেদারল্যান্ডসের একটি ভার্চুয়াল গ্যাস ট্রেডিং হাব) ভবিষ্যৎ সরবরাহ চুক্তিমূল্যের তুলনায় ৫৪ সেন্ট কম।

আরগাস এ দাম নির্ধারণ করেছে প্রতি এমএমবিটিইউয়ে ৮ ডলার ৯৩ সেন্ট। স্পার্ক কমোডিটিজও প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম নির্ধারণ করেছে প্রায় ৯ ডলার।

আটলান্টিক এলএনজির ম্যানেজার আলি ব্লেকওয়ে জানান, পাইপলাইনের মাধ্যমে এলএনজির পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে। তবে ইউরোপে মজুদ কম থাকায় জানুয়ারি ও ফেব্রুয়ারিতে ক্রয় বাড়তে পারে। পূর্ব-মধ্যপ্রাচ্যে ২০২৬ সালের প্রথম সরবরাহের জন্য ক্রয় আগ্রহ বাড়ছে, কারণ নবায়নযোগ্য জ্বালানির সরবরাহ অপ্রতুল এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ দ্রুত কমছে।

স্পার্ক কমোডিটিজ বিশ্লেষক কাসিম আফগান জানিয়েছেন, আটলান্টিক মহাসাগরীয় পথে গত সপ্তাহে এলএনজির পরিবহন ব্যয় ছিল দৈনিক ৯২ হাজার ডলার। এ সময় প্রশান্ত মহাসাগরীয় পথে পরিবহন ব্যয় কমে দৈনিক ৭৫ হাজার ৭৫০ ডলারে নেমে এসেছে।

আরও